হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নিয়ে পাকিস্তান সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
কালিবফ বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি যে আমেরিকার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তারা আলোচনার মধ্যেই দু’বার আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাই আমাদের আস্থা অর্জনের দায়িত্ব তাদেরই। অবশ্য অতীতের আচরণের কারণে সেই আস্থা অর্জন সহজ নয় এবং সময়ও লাগবে। এখন তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা আদৌ এই আস্থা অর্জনের জন্য প্রস্তুত কি না।”
তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানি জাতি তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহ ও নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
ইরানের আলোচক ও বিশেষজ্ঞ দলের গঠন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কালিবফ বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দল ছিল একটি জাতীয় দল—যেখানে সবাই আন্তরিকতা, গুরুত্ব ও সৃজনশীলতার সঙ্গে ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে। তিনি বলেন, যেমনভাবে ইরানি জনগণ শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, তেমনি প্রতিনিধিদলও আলোচনায় ঐক্যবদ্ধ ছিল।
২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আলোচক দলকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানি সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তারা শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং ইরানি জনগণের কণ্ঠ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কালিবফ বলেন, “এ ধরনের হুমকি ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আমরা প্রমাণ করেছি যে এটি শুধু স্লোগান নয়—বিশ্ববাসী তা নিজ চোখে দেখেছে। আমরা দেখিয়েছি শত্রুর হতাশা কতটা গভীর। আমরা হুমকির সামনে নত হই না। গত ৪৭ বছরের বিপ্লবী ইতিহাসে—সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপ—সব ক্ষেত্রেই ইরানি জাতি তা বাস্তবে প্রমাণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জন্য কোনো প্রস্থান পথ খুঁজতে চায়, তাহলে একমাত্র উপায় হলো—ইরানি জাতির আস্থা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাতির কাছে দায়বদ্ধ, এবং সেই দায় পূরণ করতে তাদের এখনো অনেক পথ পারি দিতে হবে।”
শেষে কালিবফ বলেন, ইরানি জাতির একটি সমৃদ্ধ সভ্যতার ঐতিহ্য রয়েছে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরা যুক্তির মাধ্যমেই জবাব দেব। আমরা কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করব না। আমাদের ইচ্ছাশক্তি আবার পরীক্ষা করে দেখুন—তাহলে আরও বড় শিক্ষা পাবেন।”
আপনার কমেন্ট